নির্বাক সময়ের গল্প – রোমেল রহমান


যা হয়ে গেছে


যা হয়ে গেছে

(ঘ)

পুতুলনাচে নাচছি তুমুল

বাজীকরের হাতের মুঠোয় খুঁট,

মধুর রসে ঘুম এলো খুব

পূর্ণিমাতে ইঁদুর এলো

ফসল হলো লুট।

রান্তাই উৎসব আজ। মন্দ্রায় উল্লাসের দিন। ছেলেমেয়েরা নানান সাজে সেজেছে, যুবক যুবতীরা নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলেছে, আজ শুধু নাচ আর মদ খাওয়া; পুন্নিমার চান্দ যখন জ্বলে জ্বলে ক্লান্ত হবে তখনো এরা নাচবে, যুবক যুবতীরা পরস্পর পরস্পরকে খুঁজে নেবে, আর শক্তিমান যুবকদের জন্য আছে এক বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন, দ্বিমাত্রা জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হবে এক অতিকায় শূকর যেটাকে শিকার করতে হবে যুবকদের, কিন্তু জঙ্গল ভরা বাঘ, ভাল্লুক সহ নানান হিংস্র জীব; খুবই সম্ভাবনা আছে শূকর বধ করতে গিয়ে বাঘের হাতে ধরা খাবার এবং প্রতিযোগিতাতে অংশ নিয়ে যারা নিখোঁজ হয় তারা আর কখনো ফেরে না। এই প্রতিযোগিতার পুরষ্কার অতি লোভনীয়, বিজয়ীকে রাজ পরিবারের সঙ্গে জুড়ে নেয়া হবে, সে হবে রাজ পরিবারের বাঁধা পুরুষ; প্রতিযোগিতার বছর যদি কোন বিবাহযোগ্য রাজকন্যা থেকে থাকে তার সঙ্গে বিয়ে হবে বিজয়ী পুরুষের এবং তার বাকি জীবনের ভরণপোষণ রাজ পরিবার বহন করবে, অন্য এলাকার রাজপুত্ররা এতে অংশ নিতে পারবে না, এটা শুধু মাত্র অন্ত্যজদের জন্য রাজপরিবারের বদান্যতা; যদিও কেউ কেউ বলে, বিজয়ীদের আর দেখা যায় না, তাদেরকে আর ফিরে আসতে দেয়া হয় না গ্রামে তার পরিবারের কাছে, কেউ কেউ বলে, এদেরকে রাখা হয় রাজ পরিবারের পালিত নাঙ হিশেবে, রাজপরিবারের পুরুষেরা সন্তান উৎপাদনে অক্ষম আর দুর্বল সন্তান জন্ম দেয় বলে নিম্নবর্গ থেকে শক্তিমান বীজপুরুষ নেয়ার একটা প্রক্রিয়া মাত্র এই খেলা; বাজে লোকে বাজে কথা বলবেই, রাজপ্রাসাদের সব কথা জনগণের জন্য না; জনগণ শুনবে ততটুকুই যতোটুকু প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে, কিন্তু এই লোভনীয় খেলার সবচেয়ে মারাত্মক অংশটার বয়ান এখনো হয়নি, এই খেলার দিন তিনজন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি যাদের দণ্ডের তারিখ সমাগত, তাদের জন্য এই উৎসবে যোগদানের সুযোগ রাখা হয়েছে; মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বন্দিদের তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হবে জঙ্গলের শূকর বধের খেলায়, এদের হাতে কোন অস্ত্র দেয়া হবে না, এদের জন্য ঘোষণা হচ্ছে এরা হত্যা করবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া অন্য শিকারি বীরদের, আর শিকারি বীরদের উপর নির্দেশ থাকবে তারা এই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের দেখলেই হত্যা করবে, ফলে পুরষ্কার হিসেবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য ঘোষণা হচ্ছে যদি তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বীরদের হত্যা করতে পারে তবে মৃত্যুদণ্ড মউকুফ করা হবে!

(ঙ)

যারা বকুল ভালোবাসে

তারা বকুল পেলেই বুক পকেটে রাখে

তারা বকুল ফেলে হয় না পলাতক!

তারা হাঁটছে গত দেড়দিন ধরে। আর এতো বেশি সতর্ক হয়ে হাঁটতে হচ্ছে যে, তার জন্য গতি আরও কমে এসেছে। ফলে তারা চারদিকের সৌন্দর্যের দিকে তাকানোর সময়ই পাচ্ছে না। তারা সবাই সৃজনশীল মানুষ। তাদের জন্য এই নিসর্গ এক ধরনের যোগান হতো নিশ্চিত। শহর ছেড়ে শহরতলী ফেলে এখন একেবারে এঁদো গ্রামে তারা পাড়ি দিচ্ছে, তারা জানে দক্ষিণে গেলেই সমুদ্র আর সমুদ্রের বুকেই সেই দ্বীপ। কিন্তু আমাদের মনে আসতেই পারে তারা তো চাইলেই বাসে চড়ে চলে আসতে পারতো কিন্তু এই বিখ্যাত বা চেনা মুখগুলোকে বাসভর্তি পেলে বাস চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা সৈনিকেরা হাতে চান্দ পাওয়ার মতো খুশি হতো এবং তারা নিশ্চিত এদেরকে এই বলে চালিয়ে দিতে পারতো, ‘রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রের জন্য এরা জমায়েত হতে যাচ্ছে কোনো গোপন গন্তব্যে।’  তাই লুকিয়ে নানান ভেক ধরে তারা পালাচ্ছে। 

সামনে এক প্রকাণ্ড মাঠ আর তার নাভিমূলে এক বিরাট চান্দ। এই চান্দের নিচে যে জীবন সে এক তন্দ্রাময় কবিতা। তার দিকে তাকানো যায় না চোখে জল আসে।  জীবন এখানে যেন ঘুমে ঢুলুমান ফুলের মতো। আর তারা যখন গাছের ছায়া ছেড়ে মাঠের জোছনা পাড়ি দিতে নামবে ঠিক তখনই, এক প্যাঁচা কথা বলে উঠলো, ডুমুরের পাতার আড়াল থেকে! প্রথমে তারা থ মেরে গেলো আর কয়েক পল যেতেই তাদের মনে হল, সম্ভব…,সবই সম্ভব…! আমাদের পৌঁছাতে হবে এবং গল্পটা পাঠকের মাধ্যমে পৃথিবীকে জানাতে হবে, তার জন্য প্যাঁচা তো কথা বলতেই পারে। ফলে প্যাঁচা বলে উঠলো, ভুতভুত ভুতুম…! {অর্থাৎ, (ধরাযাক)} …মাঠের মধ্যে কোথায় যাচ্ছ? সৃজনশীল মানুষদের দলের একজন বলল, মাঠ পেরুলে পথ কমে যাবে, তাই মাঠ দিয়ে যাচ্ছি। পেঁচা বলল, উঁহু! একদম না! মাঠের জোছনায় তোমরা তলিয়ে যাবে! জোছনার সুন্দরে ডুবে মরার চেয়ে ঘুরে আল ধরে যাও! দলের আরেকজন বলল, তুমি কি আমাদের দিগভ্রান্ত করতে চাইছ? তখন আরেকটা পাতার আড়াল থেকে পেঁচানি বলল, যাও তো বাপু… সেধে তোমাদের পথ ভুলোতে যাবো কোন দুঃখে? দলের আরেকজন বলল, এখানে জলের দীঘিটিঘি নেই? ভীষণ পিপাসা পেয়েছে! পেঁচানি বলল, বলবো না! দেখিয়ে দিলে আবার তোমাদের কেউ বলবে, দীঘিতে কুমির আছে নির্ঘাত! তা সেধে উপকার করতে গিয়ে দোষ নেবো কেন বাপু? তোমাদের পেট ভরা সন্দেহ! তখন দলের সেই লোকটা বলল, আচ্ছা ভুল হয়েছে… এখন একটু দেখিয়ে দাও জল পাবো কই! পেঁচা বলল, জল-ফল-মানুষের কলকল সবই পাবে। এখানে থেকে ডানদিকের ঝোপের মধ্যে খেয়াল করে দেখো একটা সরু পথ চলে গেছে, ঐ পথ ধরে যদি হাঁটো তো কিছুক্ষণ পর পাবে একটা লতাগুল্মে ঢাকা দেয়াল। তার সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকো। ধাক্কাতে ধাক্কাতেই দরজা খোলে। সেখানে ঢুকলেই সব পাবে। তারা এগিয়ে গেলো। গুল্মলতার ঝাড় পেরিয়ে একটা দরজাও খুঁজে পেলো। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করে ক্লান্ত-বিরক্ত হয়ে দলের একজন বলল, পুরোই গাঁজাখুরে, প্যাঁচা আর প্যাঁচানির পাল্লায় পড়ে খামোখা সময় নষ্ট! অন্য সবারও তাই মনে হতে লাগলো, আর ঠিক তখন; সম্ভবত দরজার কপাট বহু বহুদিন না খোলায় জং ধরে গিয়েছিলো, তাই একটু দেরিতে হলেও হঠাৎ মড়মড় করে খুলে গেলো প্রকাণ্ড দুই কপাট। আর দলের সবার চোখের সামনে নাজিল হল, এক মায়াবতী গ্রাম! যেখানে মানুষের কোলাহল আর জীবনের সুর। তারা বিহ্বল হয়ে দেখতে লাগলো মানুষের ব্যস্ততা, কামারেরা হাপর টেনে লোহা পিটিয়ে অস্ত্র বানাচ্ছে, বাজারে সওদা করছে লোকেরা, হোটেলগুলোয় ধোঁয়া ওঠা রান্না চলছে, কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষেরা ভীষণ ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে। সহসা গির্জার ঘণ্টা বাজার শব্দ শোনা যেতে লাগলো আর সব লোকেরা প্রায় থেমে গেলো মুহূর্তে! তারা অপেক্ষায় কান পেতে রইলো আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তারা দেখতে পেলো, শিকলের ঝন ঝন ঝনাৎ শব্দ ক্ষীণ থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, আর সন্তদের কণ্ঠে কবরযাত্রীদের গানের কোরাস স্পষ্ট হয়ে আসছে নিকটে, চার্চ ঘোষণা দিয়েছে, …এই ধর্মদ্রোহীকে এক ফোঁটা রক্ত না ঝরিয়ে হত্যা করতে হবে, দীর্ঘ আট বছর বিচার কাজ চালানোর পরেও ব্রুনোকে দিয়ে চার্চ উচ্চারণ করাতে পারে নি যে, সে যা বলেছে বা তার মতবাদ মিথ্যে। কোপার্নিকাসের আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় ব্রুনো প্রচার করতে থাকে সূর্য নয় পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘুরছে ফলে বাইবেল বিরোধী হয়ে যাওয়ায় তাকে পালাতে হয়েছে একের পর এক দেশ আর শেষমেশ প্রপঞ্চিত হয়ে সে বন্দি হয়েছে। তাকে আজ পুড়িয়ে হত্যা করা হবে, রক্তপাতহীন এক মৃত্যু। তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার জন্য তৈরি মৃত্যুমঞ্চের দিকে। জনপদের সব লোকেরা বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে দেখছে এই পাপীকে! কিন্তু ইতিহাস নির্মম, সে রাজাদের রাজা! ভবিষ্যৎকালে ব্রুনোর ভাষ্য প্রমাণিত হবে এবং সে, বিজ্ঞান প্রসারের জন্য ইতিহাসের প্রথম শহীদ হিসেবে অমর হয়ে রইবে। ফলে সৃজনশীলদের দলের লোকেরা বলল, চলো চলো এ দৃশ্য আর দ্যাখা যাবে না! ব্রুনোকে এখনই পুড়িয়ে মারবে ওরা। তারা দ্রুত ওখান থেকে সরে গেলো আর যখন তারা একটা বিরাট হলঘরের বারান্দা অতিক্রম করতে যাবে এমন সময় উঁকি দিতেই দেখল সক্রেটিসকে! মৃত সক্রেটিস পড়ে আছে! তাকে কেউ সৎকার করে নি? ব্রুনোর সময়ে তো তার লাশ পড়ে থাকবার কোন কারণে নেই? নাকি এখানে সময় স্থির! সকল সময় এখানে এক? হাতে হেমলকের নিঃশেষিত পাত্র কিন্তু সেই বিষে মৃত্যু তার বিশ্বাসকে ঘায়েল করতে পারে নি বরং তার ঠোঁটে লেগে আছে এক কৌতুকের হাসি! যা রাষ্ট্র বা পুরোহিততন্ত্রের বিচার নামক প্রহসনকে পরাজিত করে দিয়েছে! দলের একজন বলল, এগিয়ে গিয়ে দেখবো নাকি? আরেকজন বলল, চলো তো জল খেয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে! নইলে এরা আমাদের ধরে কিছু একটা করে ফেলবে! সবাই যখন সক্রেটিসের সৎকার চিন্তা নিয়ে মগ্ন তখন দলের একজন অন্য কিছুতে আগ্রহী হয়ে পড়ে, সে হলঘরের পাশের একটা অন্ধকার কক্ষে আলোকশিখা দেখে এগিয়ে গিয়ে যা দেখতে পায়, তার জন্য আঁতকে উঠে সে চিৎকার দিয়ে বলে, …একটা কিছু করো… একটা কিছু করো! ঐ দেখো, ঐ দেখো লীলাবতী! লীলাবতীকে বাঁচাও! ওর জিভ কেটে দিচ্ছে! সবাই জড় হয়ে দেখল একটা ঘরের মধ্যে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রদীপ জ্বলছে! সেই প্রদীপালয়ে লীলাবতীর মুখখানি! আর তার চারপাশে তেলতেলে শয়তানের মতো পুরোহিতদের মুখগুলো দ্যাখা যাচ্ছে! তাদের একজনের হাতে ধারালো ছুরি অন্য ক’জন লীলাবতীকে ধরে আছে, তার বচনের জন্য সে জীবিত কালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল, শ্বশুরকুল রাজজ্যোতিষী, কিন্তু তাদের গণনার চেয়ে অব্যর্থ গণনা কাব্যে বেঁধে জনঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলো লীলাবতী! সবাই তাকে খনা নামেই জানে বেশি! কিন্তু একজন নারীর এমন প্রজ্ঞাকে তো মেনে নেয়া যায় না! তাই তাকে রোধ করে দিতেই এই দণ্ড! তার জিভ কেটে দেয়া! যাতে আর বচন ওর মুখে না ফোটে! ফলে তারা কোনোমতে ছুটে পালাল আর দৌড়োতে দৌড়োতে পৌঁছে গেলো একটা দীঘির কাছে। কাঁচের মতো তার জল… তাকালেই দেখা যায় অতল। জলপানে সবার খুব আগ্রহ ছিল কিন্তু এমন স্বচ্ছ জল দেখে তাদের ভরসা হল না! কোথাও যেন গোলমাল আছে! জলের তলের সব কিছু দ্যাখা যাচ্ছে! মাছেদের সাঁতার! দ্বিধায় যখন সবাই দাড়িয়ে তখন শত শত নূপুরের মতো ঝনঝন করে কথা বলে উঠলো দীঘির জল! কি ব্যাপার… ভরসা হচ্ছে না? অবশ্য ভরসা হবারও কথা নয়…যারা পালায় তারা কাউকে ভরসা করে না! তারপর আবার ঝমঝম করে হেসে বলল, এখান থেকে বেরিয়ে যাও… জলদি, নইলে এখানের অংশ হয়ে যাবে তোমরা! সময় এখানে আটকে গেছে তোমরা কখনো টেরই পাবে না কি হচ্ছে। চারদিক দেখতে দেখতে যখন মনে পড়বে ফেরার কথা তখন বাইরের সময় এতো এগিয়ে গেছে যে তোমরা ভয়ে আর ফিরতেই পারবে না। দলের একজন বলল, তা তুমিও তো এখানকার একজন তুমি বের হয়ে যাবার বুদ্ধি দিচ্ছো যে? আমি এদের কেউ নই তাই! এরা আমাকে জোর করে তুলে এনে এখানে বসিয়েছে, যাতে বাইরের তৃষার্ত মানুষেরা জলপানের জন্য এখানে আসে আর আমাকে খুঁজতে খুঁজতে ফিরে যেতে ভুলে যায়! ফাঁদ পাতলে টোপ তো লাগেই? আর বাইরে ঐ বজ্জাত পেঁচা আর পেঁচানি এদের এজেন্ট, ওরা ভুলিয়ে ভালিয়ে মানুষ পাঠায় এখানে! দলটা ব্যস্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছিল আর তখন দীঘি বলে উঠলো, তোমরা কী মনে করে রেখেছো তোমাদের জন্য গ্রামের দরজা খুলে বসে আছে? সবাই ফিরে তাকাল! তখন দীঘি বলল, তোমরা তো সবাই মেধাবী এবং সৃজনশীল তাই না? তা গাঁয়ে ঢোকার নকশা জানলে কিন্তু বেরনোর পথটা জানলে না? সবাই বোকা হয়ে গেলো। দীঘি বলল, আমার পেটের মধ্যে দিয়ে একটা সুড়ঙ্গ চলে গেছে ওটা বেয়ে বেরিয়ে যাও! আমি কয়েক মুহূর্তের জন্য শুকিয়ে যাওয়া মাত্রই নেমে যাবে ক্যামন? সবাই রাজি হয়ে গেলো আর তখনই দলের একজন বলল, তুমি যে এজেন্ট না তাই বা বিশ্বাস করি কি করে? তোমার সুড়ঙ্গ বেয়ে যদি কয়েদখানায় পৌঁছে যাই? তখন আচমকা ঝোড়ো বাতাস বইতে শুরু করলো আর ঝনঝন করে হাসতে লাগলো দীঘির জল আর ক্রমে জল হাওয়া হয়ে যেতে লাগলো আর খনখনে ঝনঝনে হাসি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠতে লাগলো! দলের সবাই দেখল ভোর হয়ে গেছে সূর্য বিভা ছড়িয়েছে, ঝুমঝুমির মতো ঝাঁকড়া একটা বকুল গাছের পাতার আড়ালে চড়ুই পাখিদের বাইরে বের হওয়ার ব্যস্ত কোলাহল শুনে তাদের ঘোর কাটল, আর মনে হল, বেঁচে থাকাটা এক মনোরম অভিজ্ঞতা, তাকে শেষ করে দেয়াটা সস্তা-বোকামি আর তার থেকে পালিয়ে যাওয়াটা চূড়ান্ত রকমের নির্বুদ্ধিতা! ফলে দলের কারো কারো মনে হতে লাগলো, কি ফেলে আমরা কোথায় যাচ্ছি? কেনইবা যাচ্ছি? যাওয়ার চিন্তায় কেন এতো মাতাল? নাকি কেউ চাচ্ছে আমরা পালাই এবং তাকে আমরা জিতিয়ে দিচ্ছি?!

প্রচ্ছদঃ সুমন মুখার্জী


যা হতে চলেছে


যা হতে চলেছে