(চ)
শান দিচ্ছি কণ্ঠে ভীষণ শ্লোগান তুলবো ফের
বুকে আমার কালবোশেখি
প্রলয় আনবে
রক্তে পাচ্ছি টের!
কল্যাণমন্ত্রীর মুর্গির খামারের সবচেয়ে সাহসী মুর্গিটা বলল, কথা নেই বার্তা নেই ফাচাফচ আমাদেকে হত্যা? এ মেনে নেয়া যায় না! আরেক সাহসী মুর্গি বলল, অবশ্যই মেনে নেয়া যায় না! অন্যজন বলল, তাহলে করবো কি? আমরা কিইবা করতে পারি, ওদের খাঁচায় বন্দি যে আমরা! প্রথম সাহসী মুর্গিটা বলল, খাঁচা ভাঙতে হবে! দ্বিতীয় মুর্গিটা বলল, ওদের পতন ঘটাতে হবে! দুর্বল এক মুর্গি বলল, ভাঙার পথটা বল…! এবার সবাই ভাবনায় পড়ে গেলো! তাই তো!? তৃতীয় সাহসী মুর্গিটা বলল, আমার সঙ্গে কে কে আছো হাত তোলো! দ্যাখা গেলো কেউ নেই! তখন প্রথম মুর্গিটা বলল, কথা নেই বার্তা নেই ফস করে তোমার দলে কে আছে বলে দলাদলি শুরু করে দিলে? খাঁচার বাইরে থাকতে নির্ঘাত রাজনীতি ক’রতে… এবং নিশ্চয়ই দল ভেঙে বেরিয়ে নতুন দলে গিয়ে আবার সেখান থেকে বেরিয়ে নতুন দলে যোগ দিয়ে বেড়াতে? তৃতীয় মুর্গিটা বলল, না না আমি পরীক্ষা করছিলাম ওদের পালস! দ্বিতীয় মুর্গিটা বলল, ডাকে যখন কেউ সাড়া দেয় না তখন সবাই বলে, ওটা ছিল পরীক্ষামূলক! কিন্তু মুরগিদের ভেতর একটা গমগমে ব্যাপার দ্যাখা দিল! তারা প্রত্যেকেই বলল, কথা বললেই মৃত্যু? এ মেনে নেয়া যায় না! তাদের কেউ কেউ বলল, তাকরবোটা কি? মুর্গিদের ভেতর একেবারে নজরে না আসা সাধারণ এক মুর্গি বলল, সবাই দানাপানি খাওয়া ছেড়ে দাও তারপর দেখোকি হয়! থলথলে মুর্গিগুলো বলল, না না এটা সম্ভব না! খাবারই জীবন… তাকে বন্ধ ক’রে দেয়ার কোন মানে হয় না! নজরে না আসা সেই মুর্গিটা বলল, দেখলে শুরুতেই কেমন দুভাগ হয়ে গেলাম। মানুষদের মতো আমাদেরও ঐক্য বিষয়ক পতন ঘটেছে। এখন বল সবাই যদি রাজি থাকো মানে ওরা বাদে যারা রাজি তারা সবাই জোট বেঁধে এই আন্দোলনে নামা যেতে পারে! এতে অন্তত আমাদের বাঁচানোর জন্য অধিক যত্নআত্তি করবে বা আমাদের স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার কথা ভেবে ছেড়েও দিতে পারে। ফলে সবাই এই প্রস্তাবে একমত হল এবং পরেরদিন সকাল থেকে দানাপানি খাওয়া বন্ধ করে দিলো। কিন্তু আগের রাতে তীব্র কক কক করার অপরাধে দ্বিতীয় মুর্গিটাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হল! আর প্রথম মোরগটাকে নিয়ে যাওয়া হল আলাদা একটা খাঁচায়, যেখানে নতুন প্রজাতির একগুচ্ছ মুর্গি রাখা হয়েছে। ফলে এটাকে তার পুরস্কার হিসেবে কেউ কেউ দেখল। কিন্তু যখন দ্যাখা গেলো মুর্গিরা দানাপানি খাচ্ছে না তখন তাদের তদারককারী ব্যতিব্যস্ত হয়ে মন্ত্রীর কাছে জানালো এবং তৎক্ষণাৎ মন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলো। ফলে পুরো খাঁচা ধরে সবাইকে জবাই করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হল!! কেনোনা তারা ধারণা করেছিলো কোন বিশেষ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে খামারের মুর্গিরা! প্রথম মুর্গিটা যাকে অন্য খাঁচায় রাখা হয়েছে, সে আফসোস করে বলল, দূরদর্শিতার অভাব হলে এরকমই হয়! ফলে সে নিজে যে আপোষে চলে গেছে সেই ইতিহাস ঢাকা পড়ে গেলো, কেনোনা তার খাঁচায় নতুন প্রজাতির কিছু মুর্গি দেয়া হয়েছে এবং এদের মিশ্রণ ঘটানোর একটা পরিকল্পনা হচ্ছে। ফলে সে এই নতুন প্রজাতির মুর্গিদের কাছে তার শৌর্য বীর্যের মিথ্যে গল্প শোনাতে লাগলো।
(ছ)
পথ তো থাকে কতোই আসা যাওয়ার,
হৃদয়পথে পথ নিলে ঢের
অবরোধের ঢেউ;
তুমি নৌকা হয়ে উজানে থির বাও
তুমি পৌঁছাবে ঠিক
অনেক ঘামের শেষে!
তারা সবাই মাঠের কোলে গাছের আবডাল থেকে জেগে উঠে প্রথমে চারপাশটা চুপিচুপি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জরিপ করলো! বিপদের জন্য কোন পথটা খোলা আর কোন পথটা দিয়ে পালানো সহজ তা নিশ্চিত হবার পর প্রথমেই তাদের সবার তৃষার্ত বুক জানিয়ে দিলো গত রাতে তারা শেষমেশ পানীয় জল খুঁজছিল, ফলে তারা আবার খুঁজতে লাগলো জলের আধার আর তখন একটা অপ্রত্যাশিত যায়গায় একটা ছোট্ট কুটীর দেখে তারা সবাই সবার মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো। দলের সবাই যেহেতু ছিল জ্ঞানী বুদ্ধিজীবী তাদের একজন বলল, উঁহু! ওদিক থেকে সাবধান! অন্যজন বলল, কি হতে পারে বলে মনে করেন? তৃতীয় জন বলল, সম্ভবত এখানে প্রাচীন কোন সভ্যতা ছিল ওটা তার স্মারক! চতুর্থজন বিস্ময়ে বিরক্ত হয়ে বলল, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া না হওয়ায় আপনার বোধহয় দৃষ্টিভ্রম হচ্ছে খুব বেশি, ওটা কোন প্রাচীন জিনিস না ওটা দরমার বেড়ার উপরে গোলপাতার ছাউনির সভ্যতা! ফলে দলের আরেকজন ফিচ করে হেসে উঠতেই আরেকজন বলল, এহে! চুপ চুপ! তখন একজন বলল, সম্ভবত গ্রামের পাহারাদারে বাড়ি? দলের মধ্যে থেকে এক গল্পকার বলল, উঁহু! ওটা হচ্ছে সেই ডাইনি বুড়ির আস্তানা… চিনতে পারছো তো… ঐযে গ্রামের এক অবহেলিত প্রান্তে যিনি থাকেন এবং যে পথ কেউ মাড়ায় না কিন্তু গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া জঙ্গলের পথে যখন কোন পথিক পথ হারায় কিংবা জলের তেষ্টায় ওর কুটীর দেখে এগিয়ে যায় তখন ভীষণ দরদ আর আমোদের একগাল ফোকলা হাসি হেসে কুঁজো ডাইনি এগিয়ে এসে আসন পেতে বলে, রোসো রোসো বাপু… জলে খেতে ব্যস্ত হতে নেই… একটু তিষ্ঠোও আমি জল দিচ্ছি! ফলে তৃষার্ত যখন জলের জন্য আসনে বসে আর বুড়ি যখন জলের আগে কিছু ফলার এনে রেকাবিটা রাখতে রাখতে বলে, ‘আগে ফলার শেষ করো তারপর জল’- তখন ভীষণ আপন মনে হয়। তারপর ফলার খেতে খেতে বুড়ির সঙ্গে গল্পে গল্পে যখন লোকেরা পোষ মেনে যায় বুড়ির, তখন বুড়ি তাদের গাধা গরু কিংবা মুর্গি বানিয়ে রাখে! এ হল সেই কুঁজো ডাইনির কুটীর! এই শুনে দলের একজন বলল, উফফ! এখনো গল্পের মধ্যে আছেন আপনি? চলুন খোঁজ নিয়ে দ্যাখা যাক। আর তখনই এক নির্মেদ কালো লম্বা নিরাসক্ত চেহারার লোক, কুটীর ফুঁড়ে উঠোনে উদয় হল। তাকে দেখে মনেই হল না এ ব্যাটা ডাইনি বা স্কন্ধকাটা হতে পারে, বা হতে পারে ডাইনির ভাইপো ফলে সবাই এ ওকে..ও তাকে…. যখন খুঁচিয়ে বলতে লাগলো, আপনি এগিয়ে গিয়ে আলাপ করুন! এবং দলের সবচেয়ে সিনিয়র যখন বলল, ধুত্তুরি বাল… এতো মাখাও ক্যানো… একজন গেলেই হয়! হুংকার দিয়ে তিনি বয়সে সবচেয়ে জুনিয়র এক কবিকে বলল, এই তুমি যাও তো কথা বলো! এবং নির্বিবাদে ছেলেটা গিয়ে আলাপ শুরু করলো। দূর থেকে আমরা তাদের আলাপ শুনতে পাচ্ছিলাম না তাই নির্বাক সিনেমার মতো দেখতে লাগলাম। তবে ঐ লোকটার চেহারা দেখে মনে হল না তিনি এই জঙ্গলের ভেতর ছেলেটাকে দেখতে পেয়ে চমকেছেন বা এখনো তার মুখে কোন বিশেষ এক্সপ্রেশন নেই ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে তিনি যেন অপেক্ষাতেই ছিলেন ছেলেটা আসবে এবং সে এসেছে। ফলে একসময় তাদের সবার ডাক পড়লো। একে একে সবাই গিয়ে দাঁড়ালো লোকটার সামনে। তিনি বসতে বললেন, একটা হোগলা বিছিয়ে দিলেন। ঘর থেকে এক কলসি জল এনে দিলেন। জল পানের পর মনে হল, শুধুমাত্র জলের জন্য একটা যুদ্ধ হতে পারে। তারপর তাঁর সঙ্গে আলাপ শুরু হয়। সূত্রধর তরুণ কবি। ফলে আলাপ চলতে শুরু করে। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞাস করেন আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? আমরা সবাই চুপ করে থাকি। তিনি নীরবতার দৃঢ়তায় অনুভব করেন কোন জটিলতার ফলে তিনি বলেন, আচ্ছা বেশ বলবার দরকার নেই। ঠিক তখন আমাদের একজন পোঙ্গা পাকামি করে বলে ফেলে, আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি! লোকটা উত্তরদাতার দিকে তাকিয়ে কয়েক পলক সময় পর বলেন, ভালো তারমানে আপনারা খুঁজছেন, পথ হারিয়ে ফেলা মানে পথ খোঁজা। তার এই উত্তরে আমরা সবাই বিভ্রান্ত বোধ করি। এমন উত্তর যিনি দিতে পারেন তিনি সস্তা কেউ নন। তখন আমাদের দলের সিনিয়র বুদ্ধিজীবী বলেন, আসলে আমরা হচ্ছি আমাদের দেশের একদল বুদ্ধিজীবী। আমাদের দলে লেখক সাহিত্যিক শিল্পী কবি গায়ক সবাই আছেন। এবার লোকটার চোখ চকচক করে উঠল, বিদেশে নিজের দেশের মানুষ পেলে যেমন করে মানুষেরা তেমন। তখন লোকটি বলল, তা আপনারা যাচ্ছেন কোথায়? ভ্রমণে বেরিয়েছেন? আমাদের দলের এক তরুণী শিল্পী বলে উঠল, ছবি আঁকার সময় এখন কই, আগে বাঁচা চাই। লোকটা মেয়েটার কথায় কিছুটা বিভ্রান্ত হয়। আমাদের সিনিয়র বুদ্ধিজীবী তাঁকে বোঝায়, আসলে আমরা পালাচ্ছি! আমরা পালিয়ে যাচ্ছি দেশ ছেড়ে! এছাড়া আপাতত আমাদের হাতে কোন বিকল্প উপায় নেই। লোকটা এবার ভয়ানক বিস্ময় নিয়ে বলল, কেন? তখন আমরা সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে পড়ি! আমাদের সিনিয়র বলেন, আপনি কি হাওয়ায় থাকেন নাকি জলের মধ্যে ডুবে? সারা দেশে রাষ্ট্রীয় দমন পীড়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কোন উপায় নেই, সত্য বলা বারণ, কথা বললে, খুলিতে চাপাতি! যারা রাজ তোষণ করবে তারাই কেবল, লিখবে আঁকবে গাইবে! ভিন্ন চিন্তার সকল দুয়ার বন্ধ! সে দেশে থাকবো কি করে? লোকটা এবার আরও বিস্ময় এবং কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল, সকল দুয়ার বন্ধ যখন তখন বিকল্প দুয়ার খুলুন, আজ না পেলে কাল পাবেন সেটার জন্য সিঁধ কাটুন, পালিয়ে যাবেন কেন? ভূমি ছেড়ে দিলে সেখানে ফুলের চাষ হবে নাকি আগাছা জন্মাবে? আর অন্য দেশে গিয়ে কি করবেন সবাই একেকটা বুলডোজার হবেন? গ্যালারিতে বসে গালি নইলে তালি এ দুটোর বাইরে কিচ্ছু করার থাকবে না। কারণ খেলাতে আপনি অনুপস্থিত! ফলে উপস্থিত সবাই বিভ্রান্ত হয়। তিনি কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলেন, আচ্ছা আপনারা বিদেয় হন। আমাদের তরুণ কবি উত্তেজনায় জিজ্ঞাস করে ফেলে, আপনার পরিচয়টা জানতে ইচ্ছা হয়? লোকটা বলে, আমিও একজন কবি, ঐ দূরে ধোঁয়া উড়ছে যেই গ্রাম থেকে ওটা আমার গ্রাম। আমার অবস্থা প্রায় আপনাদের মতো। তবে আমি আপনাদের মতো না। আমাদের দলে একজন বলল, তারমানে আপনি একজন লোককবি? লোকটা একটু মুচকি হেসে বলল, ঐ আর কি, আমাদের নামের আগে লোক, পল্লী এইসব লাগিয়ে আপনারা আত্মরক্ষা করেন আর কি। রাষ্ট্রের আর কি দোষ আপনারা নাগরিকেরাই আমাদেরকে পংক্তিভুক্ত কোরতে দ্বিধা করেন। লেজ কেটে যাবার ভয়ে সবসময় হুংকার দিতে থাকেন! শেষ বাক্যে সবাই কুণ্ঠিত বোধ করেন। আমাদের সিনিয়র বুদ্ধিজীবী বলে ওঠেন, আমরা দুঃখিত। আপনি কি নির্বাসিত? লোকটা বলল, যে দেশের মাথায় মুর্গিকে জাতীয় পাখি করে তার স্তুতি রচনার শিল্প সাহিত্য বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হচ্ছে সে দেশের গ্রাম গুলোতেও তো একই নির্যাতনের চর্চা হবার কথা। আমাকে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে, আমি নাকি শিশুদেরকে উদ্ভট পথের সন্ধান দিচ্ছি এইসব হাবিজাবি বলে, একবার আমার ঘরে আগুন দিয়েছে। গ্রামপ্রধান ডেকে আমাকে বের করে দিয়েছিল। আমাদের দলের একজন বলল, তারপর? লোকটা বলল, আমি গ্রাম ছেড়ে এখানে এসে একটা কুটীর বানিয়ে আছি। যাবো কোথায়? পালাবো কেন? মাটি তো আমারও। আর ভিন্ন দেশে গিয়ে আমার লেখকসত্তা জ্যান্ত থাকলেও সতেজ থাকবে না। থাকতে পারে না। মূল কাহিনী ছেড়ে কল্পনায় কিছুক্ষণ ভাসা যায় কিন্তু বাঁচা যায় না। মেয়েটা বলল, কিন্তু এখন নিশ্চয়ই আপনার লেখা প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না? লোকটা বলল, ক্ষতি কি সম্ভব হচ্ছে না বলে যে হবেই না তা ভাবছ কেন? হতে কতক্ষণ? পাটের গুদামে আগুন লাগলে ছাই হতে সময় লাগে না। আর প্রচারকেরা আসবে, তাদের জমায়েত হতেই হবে। অন্য একজন বলল, আপনাকে যদি হত্যা করা হয়? তিনি উত্তর দিলেন, তাহলে সেখানে একটা বকুল গাছ গজাবে! আর একটা বকুল গাছ মানে তার থেকে লক্ষ লক্ষ বকুলের মতো কবিতা ঝরে পড়বে! তারপর প্রশ্নকারী বলল, আর যদি আপনার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়? তিনি বললেন, তবে ভবিষ্যতে মাটি খুঁড়লেই আমাকে পাওয়া যাবে! প্রশ্নকারী বলল,তার মানে আপনার মৃত্যু নেই? তিনি বললেন, বুদ্ধিমানদের মৃত্যু হয়…প্রেমিকদের নয়! আমাদের সিনিয়র বুদ্ধিজীবী বললেন,পাগলামো বাদ দিয়ে আমাদের সঙ্গে চলুন… আপনার কথা শুনে মজা পাচ্ছি বলেই অফারটা করলাম! পাল্টা উত্তরে তিনি বললেন, আমি কথক হতে আগ্রহী নই, যতোটা কবিতা লিখতে, আর পলাতকদের সঙ্গে পালাতে আরো আগ্রহী নই, যেমন আমি ধর্মে চড়ে স্বর্গে যেতে চাই না! কেনোনা গুচ্ছ গুচ্ছ বাচ্চারা না খেয়ে আধপেট খেয়ে এখনো হাসতে পারে। আমার গ্রামে মেয়েরা রেপ হচ্ছে আর তার জন্য তারাই দায়ী বলে পুরুষেরা বিশ্বাস করছে…! ফলে আমি শিশু এবং নারীদের অপছন্দ করি কেননা তারা উভয়েই আমার স্বর্গে গিয়ে শান্তিতে বাস করার মুখে অন্তরায়…! ফলে পালাতে পারছি না তবে আপনারা এগিয়ে যান…কেনোনা বাধা দিলে আমিও মৌলবাদী হয়ে যাবো…! এই উত্তর শুনে সবাই দমে গেলো। তখন ফস করে তরুণী শিল্পীটি বলে ফেলল, আচ্ছা… মেয়েদের ব্যাপারে… কি বললেন? উত্তরে তিনি বললে, ধানের দাম পাই নি মা, কুমড়ো বড়ি দিয়ে কি হবে? তরুণ কবি জিজ্ঞেস করলেন, শান্তির জন্য কি কোন উপায় নেই? তিনি বিরক্ত স্বরে বললেন, আপনারা দল ধরে পালাবেন আর শান্তি আকাশ থেকে নাজেল হবে? নাকি ফরেন থেকে খামে করে আপনারা শান্তি পাঠাবেন? অবশ্য শান্তির জন্য একটা দোকান আছে সেটা আবার শান্তি বাটোয়ারা করে থাকে। পুরো জিনিসটাই একটা নগ্ন ধাপ্পাবাজি। জাতিসংঘ জিনিসটা যে কি সেটা বোঝা যাবে তখন, যখন কারোর মস্তিস্ক বেশ্যার এবং ছেনালের তফাৎ বুঝতে শিখবে এবং দ্বিতীয়টিকে ঘেন্না করবে! নারী শিল্পীটি বলল, তাহলে আপনি পালাবেন না? যাবেন না আমাদের সঙ্গে? তিনি ক্লান্ত স্বরে বললেন, আমার মাটি ছেড়ে আমি কেন যাবো বল তো? রাষ্ট্র আমাকে বাঁচাতে সাহায্য করছে না বলেই তো আমি তাকে ঘৃণা করি? আবার রাষ্ট্র চায় যে আমি পালিয়ে যাই, চুপ থাকি; এটাও আমি সমর্থন করি না বলেই তো গেঁড়ে বসে আছি! কাউকে চুমু খাবার জন্য আমি এখানে বসে নেই। গ্রামপ্রধানকে খসে পড়তেই হবে, কোন সবুজ পাতা চিরকাল সবুজ থাকে না, থাকে নি। আমাদের সিনিয়র বুদ্ধিজীবী বললেন,তার মানে মৃত্যুদণ্ডই আপনার ভাগ্য? তিনি বিষণ্ণ সুরে বললেন, শিল্পীর জন্য মৃত্যুদণ্ড তো সবচেয়ে বড় পুরস্কার!
প্রচ্ছদঃ সুমন মুখার্জী